ভৌগলিক পরিচয়
মানচিত্রে বেমরতা ইউনিয়ন

অনেকের মতে ভৈরব নদী তার গতি বেমোড় নিয়ে কচুয়া দিকে অতিবাহিত হয়ে বলেশ্বর নদীর সাথে মিলিত হয় এজন্য এ স্থানের নাম করণ হয়েছে বেমরতা। বেমরতা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ভৈরব নদী। ভৈরব নদীর এক পাশে ১৬ টি অন্য পাশে ১৩ টি মোট ২৯টি গ্রাম নিয়ে বেমরতা ইউনিয়ন গঠিত।

পীর খানজাহান এর খলিফাতাবাদ রাজ্যের একটি অংশ ছিল এ ইউনিয়ন। এ থেকে ধারণা করা যায় বেমরতা ইউনিয়নের লোক বসতি অনেক পুরাতন। বৈটপুরের বর্তমান একটেলের মোড় নামে পরিচিত মোড়টির পূর্ব নাম ছিল খাঞ্জেলির মোড়। ধারণা করা হয় খানজহহানের বসত ভিটার পাশ থেকে ভৈরবের কূল ঘেষে যে রাস্তাটি খানজাহানের সময় নির্মিত ঐ রাস্তাটি ধারাবাহিক ভাবে বেমরতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল।

মোহাম্মদ রেজওয়ানউল হক এর বিবর্তিত বাগেরহাট মোতাবেক খানজাহান মগরাজা কর্ণওয়ালীর সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। এ যুদ্ধ রনবিজয়পুরে সংঘটিত হয়। এর কিছুদিন পর খানজাহান দড়াটানা নদীর অপর পাড়ে ফতেপুর নামক স্থানে প্রতিপক্ষের সাথে আবার যুদ্ধে অবতীর্ন হন। এই সময় ভৈরবের শাখা নদী তার সৈন্যবাহিনী নৌকাযোগে দড়ি টেনে পার হন। এজন্য নদীর নাম হয়েছিল দড়াটানা। খানজাহানের চুড়ান্ত বিজয় হয় ফতেপুরে। ফতে শব্দের অর্থ বিজয় এবং পুর অর্থ স্থান। অর্থৎ বিজয়ের স্থান। ফতেপুরের পার্শ্ববর্তী গ্রামের নাম বিজয় পুর।

ইতিহাস মোতাবেক খানজাহান ঠাকুর দিঘি খনন কালে একটি মূর্তি পান। যা তিনি স্থানীয় বর্তমান কচুয়া উপজেলার রাঢ়ীপাড়া ইউনিয়নের মহেশ চন্দ্র বহ্মচারী পূজা করার জন্য দেন। কথিত আছে এর জাথে তিনি ৩৬০ বিঘা নিস্কর জমি দান করেন। যে মূর্তি রাঢ়ীপাড়া ইউনিয়নের শিববাড়ি নামক স্থানে শিব মূর্তি হিসাবে পূজিত হত। মূলত এটি ছিল বৌদ্ধ মূর্তি। মূর্তিটি ১৯৭১ সালে বৌদ্ধ পুরহিত বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরো ঢাকায় কমলাপুর বৌদ্ধ বিহারে নিয়ে যান। এ থেকে ধারনা করা যায় বেমরতা, রাঢ়ীপাড়া অঞ্চলে খানজাহান বা তার পূর্ববর্তী সময়ে লোক বসতী ছিল।

বিখ্যাত ব্যাক্তি মুকুন্দ বিহারী মল্লিকের জীবনী থেকে জানা যায় বাংলার অন্যতম বারভুইয়া প্রতাপাধিত্যের ঢালী সৈন্যবাহিনীর অধিনায়ক মহেশ মন্ডল বর্তমান বেমরতা ইউনিয়নের খাড়াসম্বল গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। যার থেকে ধারনা করা যায় খাড়াসম্বল, অর্জুনবহর এই সকল অঞ্চলে প্রতাপাধিত্য্য সময়ে বা তার পূর্ববর্তী সময়ে লোক বসতী শুরু হয়।

.


© সুব্রত কুমার মুখার্জী, সামছউদ্দীন-নাহার ট্রাস্ট।