অন্যান্য স্থাপত্য/ দর্শনীয় স্থান
মসজিদ
নয় গুম্বজ মসজিদ

খাঞ্জেলি দীঘির পশ্চিম পাড়ে গাছগাছালির মধ্যে আচ্ছন্ন একটা মসজিদের নাম এক গুম্বজ মসজিদ। খানজাহানের অসংখ্য কীর্তিরাজির মধ্যে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র বলে তা কারুর চোখের পড়ে না। এ মসজিদে কোন শিলালিপি নাই। বর্তমান পুরুতত্ত্ব বিভাগের উদ্যেগে তাকে বেশকিছু সংস্কার করা হয়েছে। মসজিদটি বর্গাকৃতির। এর প্রত্যেক পাশ ৫৪ ফুট করে লম্বা। উত্তর ও পশ্চিম পাশের দেয়ালে তিনটা করে প্রবেশ পথ রয়েছে। দক্ষিণ দেয়ালে কোন পথ নেই। মসজিদের ভেতরে চারটা পাথরের স্তম্ভ রয়েছে। উপরে নয়টি গুম্বজ স্থাপিত।

বিবি বেগিনির মসজিদ

বিবি বেগিনির মসজিদ খানজাহানের এর এক ঐতিহাসিক কীর্তি। একে বিবির মসজিদও বলা হয়। ষাটগুম্বজ মসজিদের পশ্চিম দিকে সামান্য দূরে এ মসজিদটি অবস্থিত। এ মসজিদটি খুব বড় নয়। খানজাহানের অন্যান্য কীর্তির এটাও বর্গাকৃতি। এর প্রত্যেক বাহু বাইরের দিক থেকে ৫০ ফুট। মসজিদটির পূর্ব দিকের দেয়ালে তিনটা পথ রয়েছে। পশ্চিম দিকে কোন পথ নেই। উত্তর ও দক্ষিণ দিকের দেয়ালে পথ রয়েছে একটা। এর চার কোণে রয়েছে ৪টি মধ্যম আকারের মিনার। মসজিদটি এক গুম্বজ বিশিষ্ট তবে গুম্বজটি বেশ বড়।

চুনখোলা মসজিদ:

ষাটগুম্বজ মসজিদ থেকে প্রায় আধকিলোমিটার দূরে চুনখোলা গ্রামের মধ্যে এ মসজিদ অবস্থিত। নামকরণ থেকে ধারনা করা হয় খানজাহানের এসকল কীর্তিরাজির জন্য যে চুন ব্যবহার করা হতো তা হয়ত এখানে তৈরি হত। এ মসজিদটিও বর্গাকৃতির। প্রত্যেক পাশ ৪০ ফুট করে লম্বা। চারকোণে চারটি মিনার রয়েছে। মসজিদটি এক গুম্বজ বিশিষ্ট। গুম্বজটিও বেশ বড়। মসজদিটি বর্তমানে মাঠের মধ্যে লোকালয়হীন।

সিঙ্গাইর মসজিদ:

ষাটগুম্বজ মসজিদ থেকে সামান্য দূরে রনবিজয়পুর ইউনিয়নের সুন্দরঘোনা গ্রামের মধ্যে এ মসজিদটি অবস্থিত। এ মসজিদটির প্রত্যেক পাশের আয়তন ৪০ ফুট। মসজিদটির গায়ে কোন শিলালিপি নাই।

খানজাহানের বসতভিটা

ষাটগুম্বজ মসজিদ থেকে এক মাইল উত্তরে মরা ভৈরবের খাতের পাশে খানজাহানের বসতভিটা। কয়েক বার পুরাতত্ত্ব বিভাগের খননের ফলে সেই সময়কার স্যানিটেশান, পানি নিস্কাশন সহ ব্যবহার্য বিভিন্ন দ্রব্যাদির দেখা মেলে। খানজাহানের বসতভিটার পাশ থেকে একটি রাস্তার দেখা পাওয়া যায় যা একই সাথে ভেড়িবাধ। সে সময় নদীর পানি ঠেকানর জন্য সম্ভাব্য ভেড়িবাধের সাথে রাস্তা করা হয়। এই ভেড়িবাধের পানি সরানর পথ দেখা যায়। কিংবদন্তী অনুযায়ী খানজাহানের দুই স্ত্রী ছিল সোনা বিবি ও রুপা বিবি। দুই বিবির ঝগড়া হওয়ার কারনে একজন বিষ খেয়ে পুকুরে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করে যার জন্য একটি পুরের নাম হয় বিচ পুকুর। অনেক ঐতিহাসিক বিদদের মতে খানজাহানের কোন স্ত্রী ছিল না। এটা শুধুই স্থানীয় কিংবদন্তী

রণবিজয়পুর মসজিদ:

বাগেরহাট সদর উপজেলাধীন ষাটগুম্বজ ইউনিয়নের রণবিজয়পুর গ্রামে জেলা পরিষদের পুরাতন রাস্তার দক্ষিণ পাশ্বে এবং বাগেরহাট শহর থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তরে খানজাহান এর মাজার থেকে উত্তর দিকের রাস্তা বরাবর অর্ধ কিলোমিটার দূরে এক গুম্বজ বিশিষ্ট মসজিদটি রণবিজয়পুর মসজিদ। এ মসজিদটিও বর্গাকৃতি। বাহিরের মাপ ৪৯ ফুট ৩ ইঞ্চি। মসজিদের চার কোণে গোলাকৃতি মিনার রয়েছে। মসজিদের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে তিনটি করে প্রবেশদ্বার রয়েছে। প্রত্যেক পাশের মাঝের দরজাটি বৃহৎ আকারের। পশ্চিম পাশের দেওয়ালে তিনটি মেহরাব রয়েছে। মেহরাবগুলিতে পোড়ামাটির কাজ রয়েছে।

রেজাই খাঁর মসজিদ::

বাগেরহাট সদর উপজেলাধীন ষাটগুম্বজ ইউনিয়নের সুন্দরঘোনা গ্রামে জিন্দাপীরের মাজারের পশ্চিম-উত্তরে প্রায় ১০০ মিটার দূরে উচু স্থানে রেজাই খাঁ নামীয় ছয় গুম্বজ মসজিদ অবস্থিদ। সংরক্ষণের অভাবে মসজিদটি হারিয়ে যেতে বসেছে। এ মসজিদে কৃষ্ণ পাথরের বড় বড় কয়েকটি থাম রয়েছে।

মিঠাপুকুর পাড় মসজিদ:

বাগেরহাট সদরে মিঠাপুকুরের পশ্চিম দিকে সরুই গ্রামে আগন্তুকদের জন্য খানজাহানের মোসাফিরখানা ছিল। এ মোসাফিরখানাকে সরুইখানাও বলা হয়। সরুইখানা থেকে সরুই নামকরণ হয়। মোসাফিরদের নামাজের জন্য মিঠাপুকুর নিকট এক গুম্বজ বিশিষ্ট মসজিদ নির্মান করা হয়। বর্তমানে আরও ২টি গুম্বজ নির্মান করে মসজিদটি সম্প্রসারণ করা হয়।

পীর আলীর মাজার:

খানাজাহানের মাজার শরীফের পাশে পশ্চিমদিকে মাজার বিল্ডিং এর খানজাহানের এর দেওয়ান মোহাম্মদ তাহের এর মাজার শরীফ। তিনি পীর আলী নামে পরিচিতি। তিনি প্রথমে হিন্দু ধর্মালম্বী বিচক্ষণ পন্ডিত ছিলেন। তার পূর্ব নাম গোবিন্দ ঠাকুর বা গোবিন্দ পন্ডিত। খানজাহানের সান্নিধ্যে এসে তিনি মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি খানজাহানের বিশ্বস্ত প্রধান আমাত্যর দায়িত্ব পালন করতেন।

দরগাহ মসজিদ::

হযরত খানজাহানের এর মাজার সৌধ ও তদীয় বন্ধু সহকারী মোহাম্মদ তাহেরের সমাধির পশ্চিম পাশ্বে এক গুম্বজজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ রয়েছে। এর দেওয়ালের প্রশস্ততা ৭ ফুটের কিছু বেশি। এ মসজিদটি বর্গাকার। প্রত্যেক পাশের দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট।

খানজাহান (রহ:) এর বাবুর্চিখানা:

খানজাহান (রহ:) এর সমাধি সৌধের পূর্বদিকে বাবুর্চিখানা। ইহার ছাদ বহুলাংশে চৌচালা ছাদের ন্যায়। খানজাহান (রহ:) শেষ জীবনে অসংখ্য গরিব দু:খী, দুস্থ, অসহায় ও আগুন্তকদের তৃপ্তি সহকারে ভোজন করাতেন। এই ইমারতের উত্তর ও দক্ষিণদিকে একটি করে এবং পূর্বদিকে ৩টি প্রবেশদ্বার রয়েছে। রন্ধনশালার মধ্যে জিনিসপত্র রাখার তাকও রয়েছে। বাবুর্চিখানার উত্তরে প্রধান প্রবেশদ্বার ও তোরণ। এর উত্তরে প্রশস্ত রাস্তা।

লালচন্দ্রপুরের খাঞ্জালী মসজিদ::

ফকিরহাট উপজেলাধীন বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়নের লালচন্দ্রপুরে একটি খাঞ্জালী মসজিদ রয়েছে। মসজিদটি এক গুম্বজ বিশিষ্ট। এটিও বর্গাকৃতি। দৈর্ঘ্য ৩৯ ফুট। বর্তমানে মসজিদটির উপরে টিনের চাল দেওয়া হয়েছে। মসজিদটির উত্তরে ২.৩৪ একর একটি দীঘি রয়েছে।

শুভদিয়ার খাঞ্জালী মসজিদ::

ফরিহাট উপজেলাধীন শুভদিয়া ইউনিয়নের শুভদিয়া গ্রামের তাকিয়াবাটিতে একটি খাঞ্জালী মসজিদ রয়েছে। মসজিদটি এক গুম্বজ বিশিষ্ট। মসজিদটি তাকিয়াবাটি মসজিদ বলে পরিচিত।

সাবেক ডাঙ্গা মসজিদ:

বাগেরহাট সদর উপজেলাধীন কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙ্গা গ্রামে পূর্বতম ষাটগুম্বজ রেলওয়ে স্টেশনের সন্নিকটে সাবেকডাঙ্গা মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদের বহিরাংশের মাপ উত্তর-দক্ষিণে ২৬ ফুট। পূর্ব-পশ্চিমে ২০ ফুট ২ ইঞ্চি। মসজিদের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিন দিকে একটি করে প্রবেশদ্বার রয়েছে। পশ্চিম দিকের মেহরাবটি আয়তাকার।

জিন্দাপীরের মাজার::

হযরত খানজাহান (রহ:) সমসাময়িক বা পরবর্তী কীর্তিরাজির মধ্যে জিন্দাপীরের মাজার অন্যতম। চারটি সুদৃঢ় স্তম্ভের উপর মাজার বিল্ডিং এর গুম্বজ নির্মিত। বিল্ডিং এর চারকোণে অষ্টভুজবিশিষ্ট চারটি বুরুজ রয়েছে। বিল্ডিং এর চারপাশে চারটি প্রবেশদ্বার রয়েছে।

জিন্দাপীরের মাজার মসজিদ:

সৈয়দ আহমদ শাহ ওরফে জিন্দাপীরের নামে একটি মাজার রয়েছে। যার উত্তর-পশ্চিম কোণে এক গুম্বজ বিশিষ্ট একটি এবাদতখানা রয়েছে।

মকর উল্লাহ মসজিদ:

ফকিরহাট উপজেলার পিলজং ইউনিয়নের পিলজং গ্রামে মকরউল্লাহ মসজিদটি অবস্থিত। স্থানীয় কিংবদন্তি অনুযায়ী খানজাহান (রহ:) এর নিদের্শ অনুসারে মকরউল্লাহ শাহ এ মসজিদ নির্মান করেন। মকরউল্লাহ শাহ এলাকা রক্ষণাবেক্ষনের জন্য পিলজং গ্রামে অবস্থান করেন। মসজিদটি পাচ গুম্বজ বিশিষ্ট। চারকোণে চারটি এবং মাঝখানে একটি বড় গুম্বজ ছিল। মসজিদটির উত্তর পাশে একটি ঈদগাহ রয়েছে।

দীঘি:
ঘোড়া দীঘি:

বাগেরহাটে খানজাহান (রহ:) এর প্রথম খননকৃত দীঘি। তিনি প্রথম এসে ভৈরব তীরে সুন্দরঘোনা নামক স্থানে অবস্থান করেন। তিনি অবস্থানের পর এ অঞ্চলের নাম হয় বারাকপুর। সুপেয় পানির অভাব পূরণ করার জন্য তিনি দীঘি খনন করেন। দীঘিটি পূর্ব পশ্চিমে লম্বা। এর আয়তন লম্বায় ১০০০ হাত এবং প্রস্থে ৬০০ হাত। এ দীঘির পূর্ব পাড়ে রয়েছে খানজাহানের অবিস্মরণীয় কীর্তি ঐতিহাসিক ষাট গুম্বজ মসজিদ।

খাঞ্জেলি দীঘি:

খানজাহানের আর এক বড় কীর্তি খাঞ্জেলি দীঘি। এ দীঘিটি তার মাজারের সামনে অবস্থিত। দীঘিটি চতুভুজাকৃতি। ১১০০ বর্গহাত বিশিষ্ট। প্রায় ২০০ বিঘা জমির উপর। এ দীঘির অপর নাম ঠাকুর দীঘি। এ দীঘি খননের সময় মাটির নীচে বৌদ্ধমূর্তি পাওয়া যায় যার কারনে ঠাকুর দীঘি নামে পরিচিত। যে মূর্তি শিববাড়িতে শিব হিসাবে পূজিত হত। কিংবদন্তি অনুযায়ী খানজাহানের দুটি ঘোড়া যা কুমিরে পরিণত হয়। কুমির দুটির নাম কালাপাহাড় ও ধলাপাহাড়। এরা খুবই নিরীহ স্বভাবের। পুণ্যার্থীরা পানিতে নেমে ওজু গোসল করলেও তারা এদের কোন ক্ষতি করে না। মানুষেরা কুমীরের নামে মানত করে মুরগী ছাগল নিয়ে আসে ভক্তিভরে কুমিরকে খেতে দেয়। প্রতি বৎসর চৈত্র মাসের পূর্ণিমায় এ দীঘির পাড়ে এক বিরাট মেলা বসে, যা খাঞ্জেলির মেলা নামে পরিচিত।

পচা দীঘি:

পচা দীঘি বাগেরহাটের এক উল্ল্যেখযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। মহাসড়কের পাশে এ দীঘি অবস্থিত। এর উত্তরে দশানী গ্রাম। পূর্বে বাদে কাড়াপাড়া, দক্ষিণে ফুলতলা এবং পশ্চিমে দেয়াবাড়ি ও ফুলতলা গ্রাম। আয়তনে খাঞ্জেলি দীঘি, ঘোড়া দীঘির পর এর অবস্থান। কোন কোন ঐতিহাসিকদের মতে এ দীঘি খানজাহান খনন করেন। ভাল পানি না ওঠায় পরিত্যাক্ত হয়। স্থানীয় কিংবদন্তি অনুযায়ী খানজাহানের জনৈক ভাগনে এ দীঘি খনন করেন। দীঘি খননের পর অস্বাভাবিক রকম অহংকারী হয়ে পড়ে। তার স্পর্ধা সীমা ছাড়িয়ে গেলে খানজাহানের অধৈর্য হয়ে পড়েন এবং তিনি অভিশাপ দেন এ দীঘির পানি কেউ খাবে না।

এখতিয়ার খার দীঘি:

কৃষ্ণনগর গ্রামে এখতিয়ার খার দীঘি অবস্থিত। এ দীঘিটি নদীর খাতে খননকৃত। পূর্ব ও পশ্চিমে ভৈরবের প্রাচীন চিহ্ন বিদ্যামান। চতুর্থ স্থান অবস্থান করে এখতিয়ার খার দীঘি। এ দীঘি প্রায় আধামাইল লম্বা। তবে সে পরিমানে চওড়া নয়। খানজাহান (রহ:) বিশ্বস্ত অনুচর সেনাপতি এখতিয়ার খার নামে এ দীঘি। এ দীঘির পূর্বপার খুবই উচু। এ দীঘির পূর্ব পাড় দিয়ে বাগেরহাট শহর থেকে একটি খালের সংযোগ দেখা যায়।

কোদাল ধোয়া দীঘি:

ষাটগুম্বজ মসজিদের পূর্বপাশ্বে এ দীঘিটি অবস্থিত। দীঘিটি প্রায় মজে গিয়েছে। স্থানীয় কিংবদন্তি অনুযায়ী ঘোড়াদীঘি খননের পর খননকারীদের কোদাল ধোয়ার জন্য এ দীঘি খনন করা হয়।

অন্যান্য দীঘি:

এছাড়া মোল্লার দীঘি, সোনাতলার কামার খার দীঘি, রাজাপুর গ্রামের দীঘি, সায়ড়া গ্রামে গরিবশাহ এর দীঘি, সিংড়া গ্রামে বদর খার দীঘি, সুন্দরঘোনা গ্রামে বখতিয়ার খার দীঘি, কড়ে মসজিদ সংরগ্ন দীঘি, শাহাদাত খার দীঘি, আহম্মদ খার দীঘি, বাগমারা গ্রামে আনোয়ার খার দীঘি, মির্জাপুর গ্রামে পাচু দীঘি, রামপালের কালেখার বেড় দীঘি, হুড়কো গ্রামের ঝলমলে দীঘি উল্ল্যেখযোগ্য।

প্রাচীণ মন্দির:
অযোধ্যার মঠ:

বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুর বাজার হতে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে প্রাচীন ভৈরব নদীর তীরে বারুইপাড়া ইউনিয়নে কোদলা (অযোধ্যা) মঠ অবস্থিত। তলদেশে বর্গাকারে নির্মিত এ মঠের প্রত্যেক বাহু বাইরের দিকে ২৭/-৮// দীর্ঘ। ভিতরের প্রকোষ্ঠের মাপ দৈর্ঘ্য ১০.৫ ফুট, প্রস্থ ১০.৫ ফুট। ইটের তৈরী প্রাচীরগুলি ৮/-৭.৫// । এই মঠের বিশেষ আকর্ষনীয় দিক হচ্ছে এর বাইরের টেরাকোটার অলংকার। উড়িষ্যা অঞ্চলে খ্রীষ্ট্রীয় ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত যে রেখা ষ্টাইলে মন্দির নির্মান পদ্ধতি দেখা যায়, তার প্রভাব এই মঠে আছে বলে ধারণা করা হয়।

পানিঘাট অষ্টদশভুজা মন্দির::

বাগেরহাট শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার ভৈরব নদীর তীরে যাত্রাপুর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের নিকট পানিঘাট নামক স্থানে এ মন্দিরটি অবস্থিত। মন্দিরটির প্রায় ১৫৫ বৎসর পূর্বে নির্মিত। ভারতের শীর্ষস্থানীয় ৫২টি মন্দিরের একটি বলে বিবেচিত হত।

শিববাড়ি মন্দির: :

১৪৫০ থেকে ১৪৫৬ এর মধ্যে খানজাহানের খননকৃত খাঞ্জালীর দীঘিতে প্রাপ্ত বৌদ্ধ মূর্তি শিববাড়িতে শিব হিসাবে পূজিত হতেন। স্থানীয় চরকাঠী গ্রামের মহেশচন্দ্র ব্রহ্মচারীকে পূজার দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে এ বৌদ্ধ মূর্তি কমলাপুর বৌদ্ধ বিহারে স্থানান্তর করা হয়।

লাউপালার গোপালজিউর মন্দির::

বাগেরহাট সদর উপজেলার ভৈরব নদীর উত্তরপারে বারুইপাড়া ইউনিয়নে লাউপালা মন্দির অবস্থিত। অযোধ্যার মঠে যাওয়ার পথে এ মন্দিরটির অবস্থান। রথযাত্রা উপলক্ষে আষাঢ় মাসে এখানে ভক্তদের সমাবেশ হয়।

বিট্রিশ আমল::
মোরেল সাহেবের কুঠিবাড়ী::

১৯২৮ সালে সুন্দরবনের সীমানা নির্ধারনের জন্য আইন পাশ হয়। ১৯৩০ সালে সুন্দরবন জরিপ করা হয়। জরিপের পর জমিদার কালীপ্রসন্ন মুন্সী ১, ২, ৩ ও ৪ নং লট ও বারুইখালী মৌজা ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নেন। তিনি কয়েক বৎসরের ৮০০ বিঘা জমি আবাদ করতে সমর্থ হন। পরবর্তীতে পুনরায় বন্দোবস্ত দিলে শেতাঙ্গ ধনী বিধবা মিসেস মোড়েল মেসার্স মোড়েল নামক কোম্পানীর নামে ইজারা নেন। মহিলার চার পুত্র ছিল রবার্ট, টমাস, উইলিয়া ও হেনরী। টমাসের অকাল মৃত্যুর পর তিন ভাই জমিদারী দেখাশুনার জন্য বলেশ্বর ও পানগুচি নদীর সংগমস্থলে সরালিয়া নামক স্থানে বসবাস করতে থাকেন। বরিশাল অঞ্চল থেকে শ্রমিকদের এনে পত্তনি দেওয়া হয়। মোরেল সাহেবদের আয় ক্রমশ: বৃদ্ধি পেতে থাকে। তারা বসবাসের জন্য বিরাট পাকা ভবন তৈরী করেন। এখানে নদীরতীরে বাজার বসানর পর ব্যবসার প্রসার বাড়তে থাকে। মোরেলদের ম্যানেজার ডেনিস হেলি কর্মকান্ড স্থানীয় চাষীদের পছন্দ হত না। এক সময়ে স্থানীয় কৃষক রহিমুল্লাহ তার কার্যক্রমের প্রতিবাদ করতে থাকেন। হেলী লাঠিয়াল বাহিনী দ্বারা তাকে জব্দ করার চেষ্টা করে। রেহিমুল্লা তার যৎসামান্য অস্ত্র নিয়ে হেলীর বিশার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে শহীদ হন। পরবর্তীতে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র এ মামলার জন্য মোরেলগঞ্জ আসেন।

.

© সুব্রত কুমার মুখার্জী, সামছউদ্দীন-নাহার ট্রাস্ট।