সামছউদ্দীন আহম্মদ
পিতা : রেয়াজউদ্দিন আহম্মদ
মাতা : আসিয়া খাতুন
জন্মসাল ও স্থান : ১৯১৮, ১ জানুয়ারী, বৈটপুর, বাগেরহাট।
শিক্ষাগত যোগ্যতা : বিএসসি, পিটি
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম-বৈটপুর, থানা ও জেলা-বাগেরহাট
মৃত্যু : ২০০২, ৯ জানুয়ারী, সন্ধ্যা ৭ টায়

মরহুম সামছউদ্দীন আহম্মদ ১৯১৮ সালে বর্তমানের বাগেরহাট জেলার বৈটপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে। তার পিতার নাম মরহুম রেয়াজউদ্দীন আহমদ এবং মা আসিয়া খাতুন। বেমরতা এম.ই. স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর বাগেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে পিরোজপুর সরকারি বিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৩৪ সালে দুটো অঙ্কে লেটারসহ ম্যাট্রিক পরীক্ষায় ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

জনাব আহম্মদ পিসি কলেজ, বাগেরহাট থেকে ১৯৩৬ সালে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করেন। এবং ১৯৩৮ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যায় অনার্স নিয়ে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৩৯ সালে সাতক্ষীরার খান সাহেব নিয়ামতউদ্দিনের ছোট মেয়ে রেশাতুন নাহারের সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৪০ সালে পিটি পাস করেন।

জনাব আহম্মদ ১৯৪২ সালের সহকারী শিক্ষক হিসাবে পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগ দেন। এবং সেখানে একটানা প্রায় বার বছর শিক্ষকতা করেন। এরপর বরিশাল জেলা স্কুলে যোগ দেন। সেখান থেকে খুলনা জেলা স্কুল এবং তার পর বগুড়া জেলা স্কুলে সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসাবে শিক্ষকতা করেন। মধ্যে কিছুদিন কুষ্টিয়া জেলা স্কুলেও শিক্ষকতা করেন। এবং ১৯৬৩ সালে প্রেষণে স্কুল টেক্সট বুক বোর্ডে সহকারী সচিবের দায়িত্ব নেন। ১৯৬৮ সালের জুন মাসে প্রধান শিক্ষক পদে মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগ দেন। ১৯৭৭ সালে এখান থেকে অবসর নেন। অবসরের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুল কলেজে উন্নীত হলে, তিনি ভাইস পিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮৩ সালে পুরোপুরি অবসর জীবন যাপন করেন। তার এই দীর্ঘ কর্মজীবেন প্রচুর ছেলেমেয়েকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। অকাতরে জ্ঞান দান করে গেছেন। ছাত্র-ছাত্রীরাই এবং তাদের পড়ানোই ছিল তাঁর পেশা, নেশা ও ধ্যান জ্ঞান।

তার সব ছেলে-মেয়েরাও স্ব স্ব ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বড় ছেলে মোহাম্মদ রফিক বাংলাদেশেন একজন সুখ্যাত কবি। মেজ ছেলে মোহাম্মদ ফারুক সুপ্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক। ওনার নামে যুক্তেরাষ্টে প্রায় ১০০টি প্যাটেন্ট রয়েছে। সেঝ ছেলে মোহাম্মদ সফিক কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী ছিলেন, চতুর্থ ছেলে মোহাম্মদ তারেক বাংলাদেশের অর্থ সচিব ও সিনিয়র সচিব ছিলেন। তার মেয়ে ডা: সেলিনা পারভীন একজন প্রখ্যাত গাইনোলজিস্ট ও দীর্ঘ সময় বরিশাল মেডিকেল কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। পঞ্চম ছেলে ড: মোহাম্মদ নাসের একজন আর্ন্তজাতিক মানের পরিসংখ্যানবিদ ছিলেন। দ্বিতীয় মেয়ে সবিতা ইয়াসমিন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক এবং ছোট ছেলে মোহাম্মদ সাকিব যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ডালাস এ্যাট টেক্সাসে যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক।

২০০২ সালের ৯ জানুয়ারী সন্ধ্যা সাতটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

.


© সুব্রত কুমার মুখার্জী, সামছউদ্দীন-নাহার ট্রাস্ট।